1. ovimani9649@gmail.com : Minhaz :
  2. minhazur1952@gmail.com : Minhazur :
  3. admin@probashibulletin.com : Probashi Bulletin :
  4. rezwan.sheikh@outlook.com : Reporter Kibtia :
প্রবাসে শ্রমিকের ৬২% মৃ’ত্যুর কারণ স্ট্রো''ক, যেসব কারণে স্ট্রো''ক হয়ে থাকে!
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
বাড়িরে উঠোনে বন্যার পানিতে ভেসে এসেছে মাছ, জানালায় বসে জাল দিয়ে মাছ শিকার করল যুবক, ভাইরাল ভিডিও। বন্যার পানিতে স্কুল মাঠে ভেসে এসেছে বোয়াল মাছ, চার যুবক দারুন কায়দা করে কোচ দিয়ে ধরল বোয়াল, ভাইরাল ভিডিও বন্য গাধাকে ধরতে আসল দুই সিংহ, দারুন কায়দা করে সিংহ দুটোকে মূহুর্তেই পরাস্থ করল গাধা, তুমুল ভাইরাল সেই ভিডিও। ভেসে আসা বন্যার জলে দারুন কায়দায় প্রচুর মাছ ধরল সুন্দরী যুবতী, যুবতীর মাছ ধরার ভিডিওটি তুমুল ভাইরাল নেটদুনিয়ায়। খুব সহজেই টুথপেস্ট আর আদা দিয়ে শরীর থেকে দূর করুন আঁচিল একদম ১০০% কার্যকরী, রইল A-Z প্রদ্ধতি! বাড়িতেই মাত্র তিন দিনে কালো ঠোঁট বাচ্চাদের মতো গোলাপি করার দারুণ সহজ উপায় দাঁতের গর্ত হয় কেন, আর গর্ত হলে আপনি কী করবেন জেনে নিন পেঁয়াজে একদিনেই সারবে কাশি, জেনে নিন তৈরি পদ্ধতি অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ক্যা’ন্সারের লক্ষণ নয় তো? শ’রীরের উচ্চতা বাড়ানোর ৯ উপায়

প্রবাসে শ্রমিকের ৬২% মৃ’ত্যুর কারণ স্ট্রো”ক, যেসব কারণে স্ট্রো”ক হয়ে থাকে!

  • এখন সময় শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১

কুমিল্লার মো. তাজুল ইসলাম (৩১) প্রায় আট’ বছর আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ছিলেন। ভবনে অ্যালুমিনিয়ামের পাত লাগানোর কাজ করতেন। অবশ্য নিয়োগকারী এজেন্সি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় কাজও দিত তাঁকে।

দুই বছরের মধ্যেই উচ্চ র’ক্তচাপ দেখা দেয় তাঁর। এরপর প্রতিবছর দেশে ফিরে চিকিৎসা করাতেন। কাজের চাপে টানা ২২ মাস দেশে ফেরেননি। তাঁর ভাই বোরহান জানান, গত ১২ জুন স্ট্রোক করে সেখানকার এক হাসপাতালে মা’রা যান তাজুল।

সুনামগঞ্জের আনিছ আলী (৩৬) সৌদি আরবে ভবনে কাজ করতেন। তেমন কোনো অসুস্থতার কথা জানা নেই তাঁর পরিবারের।

দেশে ফিরেও কখনো চিকিৎসা নিতে দেখা যায়নি তাঁকে। তাঁর স্ত্রী শাপলা আক্তার বলেন, ‘২২ মে সকাল আট’টায়ও কথা বলছি, দুপুর দুইটায় আর ফোন করে পাইনি। পরে শুনেছি, স্ট্রোক করে মা’রা গেছেন।’

প্রবাসী শ্রমিকদের মৃ’ত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন শ্রমিকের লা’শ আসছে। এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে এসেছে ২ হাজার ৬১১টি লা’শ।

এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসের মৃ’’ত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশই মা’রা গেছেন স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণের কারণে। এরপর দু’র্ঘটনায় মা’রা গেছেন প্রায় ১৮ শতাংশ। আর স্বাভাবিক মৃ’’ত্যু ৫ শতাংশ।

মৃ’’ত ব্যক্তিদের স্বজন, প্রবাসী বাংলাদেশি ও অ’ভিবাসন খাত-সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ অ’ভিবাসন ব্যয় প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে।

১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘু’মানোর সুযোগ পান না শ্রমিকেরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। অথচ বাংলাদেশে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার প্রবাসী আয় আসে। দ্বিতীয় বৈদেশিক আয়ের এ খাতে সরকারের তেমন কোনো বিনিয়োগ নেই। প্রবাসীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দূতাবাসগু’লোর জনবল ঘাটতির কথা বলা হয় প্রায়ই।

অ’ভিযোগ রয়েছে, প্রবাসীদের অস্বাভাবিক মৃ’ত্যু ত’দন্তে কোনো উদ্যাগ নেই সরকারের। মৃ’ত্যুর কারণ যাচাই-বাছাই করে দেখা হয় না। প্রবাসী কর্মীদের

কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নেই কোনো নজরদারি। বছরের পর বছর অস্বাভাবিক মৃ’ত্যু বাড়তে থাকলেও তা প্রতিরোধে সক্রিয় হচ্ছে না সরকার।

এ বি’ষয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান বলেন, এমন মৃ’’ত্যুর বি’ষয়টি তাঁদেরও নজরে এসেছে। অধিকাংশ প্রবাসী পরিবেশের স’ঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেন না। ভালো করে প্রস্তুতি না নিয়ে, কখনো দায়সারা প্র’শিক্ষণ নিয়ে চলে যান।

ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে যথাযথ প্রস্তুতির বি’ষয়টি প্র’শিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের সচেতন করতে দেশজুড়ে কর্মসূচি চলমান আছে।

ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে বাড়তি কাজের প্রবণতা মৃ’’ত্যুর কারণ খতিয়ে দেখে না সরকার

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বলছে, লা’শ হয়ে ফেরা প্রবাসীদের ৮০ শতাংশের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার অধিকাংশই মূলত সৌদি আরবের। গত ২৬ মা’র্চ সৌদি আরবের

জেদ্দা কনস্যুলেট প্রবাসীদের জন্য বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা দিয়েছিল। এতে ৬১৬ জন প্রবাসী কর্মী চিকিৎসা সহায়তা নেন। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ (৫৮১ জন) প্রবাসীর উচ্চ র’ক্তচাপ বা ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়।

অতিরিক্ত কাজের চাপ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, উচ্চ ক্যালরির খাবার, ব্যায়াম না করার প্রবণতা প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে মনে করেন কনস্যুলেটের শ্রম বিভাগের কাউন্সেলর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসে কেউ মা’রা গেলে লা’শ দেশে নেওয়া বা না নেওয়ার সি’দ্ধান্ত দেন পরিবারের লোকজন। অনেকে এখানেও সমাহিত করার কথা বলেন। তবে প্রবাসীর মৃ’’ত্যুর পর স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ডেথ নোটিফিকেশন দূতাবাসে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, সেখানে মৃ’’ত্যুর কারণ লেখা থাকে। এসব কাগজপত্র লা’শের স’ঙ্গে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রবাসে স্ট্রোকে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে কেউ কেউ দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে চিকিৎসা নিতে আসেন বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম পরিচালক মো. বদরুল আলম মণ্ডল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আ’ক্রা’ন্ত হওয়ার পরও সেখানে তাঁরা চিকিৎসা পান না, তাই দেশে চলে আসেন।

শ্রমিকেরা চিকিৎসাহীন অবস্থায় বছরের পর বছর পার করে দেন। অতিরিক্ত কাজ, কম ঘু’ম, অস্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টির অভাবে উচ্চ র’ক্তচাপে ভোগেন তাঁরা। এ ছাড়া নানা চাপের কারণে ‘স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে’ ভোগেন প্রবাসী কর্মীরা।

জানা গেছে, গত আগস্টে বিভিন্ন দেশ থেকে লা’শ হয়ে ফিরেছেন ২৯৪ জন। এর মধ্যে স্ট্রোকে সৌদি আরবে মা’রা গেছেন মৌলভীবাজারের শহিদুল মিয়া (২৭), মালয়েশিয়ায় সিরাজগঞ্জের আল আমিন (৩২), ওমানে লক্ষ্মীপুরের সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ (৩৩), কাতারে টা’ঙ্গাইলের আশরাফ আলী (২৭), আরব আমিরাতে কিশোরগঞ্জের আরাফাত আলী (২৭), ইতালিতে শরীয়তপুরের মনির হোসেন (২৮), দক্ষিণ আফ্রিকায় কেরানীগঞ্জের লোকমান (৩৩) এবং সি’ঙ্গাপুরে মা’রা গেছেন চাঁদপুরের হোসেন আহমেদ (২৭)।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্যমতে, ২০০৫ সাল থেকে ধরলে গত আগস্ট পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৭৪৯ জনের লা’শ এসেছে বিদেশ থেকে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৪৮১, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৩৮৭ এবং ২০১৮ সালে আসে ৩ হাজার ৭৯৩টি মৃ’’তদে’হ। এর বাইরে বিদেশে অনেক প্রবাসীর দা’ফন হয়েছে। সেই সংখ্যা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জানা নেই। প্রবাসীদের এমন মৃ’’ত্যুর কারণ নিয়েও কখনো অনুসন্ধান করেনি মন্ত্রণালয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহা’ম্ম’দ জুলহাস বলেন, প্রয়োজন না পড়ায় মৃ’’ত্যুর কারণ কখনো যাচাই করে দেখা হয়নি। দূতাবাস থেকে পাঠানো প্রতিবেদন অনুসারেই মৃ’’ত্যুর কারণ নথিভুক্ত করা হয়। তবে বর্তমানে গত তিন বছরে প্রবাসী নারী কর্মীদের মৃ’’ত্যুর কারণ পর্যালোচনা করে দেখছেন তাঁরা।

প্রবাসীদের উচ্চ অ’ভিবাসন ব্যয়ের জন্য বেসরকারি খাতের জনশক্তি র’প্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগু’লোকেও দায়ী করা হয়। সরকার ব্যয় নির্ধারণ করে দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানে না প্রতিষ্ঠানগু’লো। এ বি’ষয়ে বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, চাপ সহ্য করার মতো প্র’শিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে শ্রমিকদের। তারপরও নানা কারণে শ্রমিকের মৃ’’ত্যু ’হতে পারে। কিন্তু বিমা সুবিধার মাধ্যমে ক্ষ’তিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় অ’ভিবাসন নিয়ে কাজ করছেন আসিফ মুনীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখা রেমিট্যান্সের কথা ভেবে হলেও প্রবাসীদের আরও গু’রুত্ব দেওয়া উচিত সরকারের। দায়সারাভাবে তাঁদের পরিবারকে মৃ’’ত্যুর কারণ বলে দেওয়াটা খুব অসম্মানজনক। মৃ’’ত্যুর কারণ অবশ্যই সরকারিভাবে যাচাই করা এবং তা প্রতিরোধে উদ্যোগী হওয়া উচিত। বিদেশের কর্মপরিবেশ উন্নত করার জন্য দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় আলোচনার প্রয়োজন। সূত্র: প্রথম আলো

নিউজটি শেয়ার করুন...

এ জাতীয় আরো খবর...
কপিরাইট © ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রবাসী বুলেটিন.কম
Developed By ProbashiBulletin
error: চুরি করা নিষেধ । 🤣